খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে চীন সরকার। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন সয়াবিন ও ভুট্টার জাত উদ্ভাবনে প্রচেষ্টা চালানো হবে। এছাড়া প্রধান শস্য ও ভোজ্যতেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রাধান্য দেয়া হবে। খবর রয়টার্স।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হবে ভুট্টা, চাল, গম, সয়াবিন ও সরিষার মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। এ লক্ষ্যে ভালো জমি, উচ্চ মানের বীজ, যন্ত্রপাতি ও চাষের কৌশলের সঠিক ব্যবহার এবং সমন্বয় করা হবে।
চীনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে শস্য উৎপাদন পাঁচ কোটি টন বাড়ানো, যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি হবে। ২০২৪ সালে চীনের মোট শস্য উৎপাদন ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ৬৯ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার টনের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
কৃষি মন্ত্রণালয় আরো জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তহবিল সমন্বয়ের প্রচেষ্টাও চালানো হবে।
সম্প্রতি চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের উপপরিচালক ওয়ে ফেংহুয়া জানান, গত বছর দেশে মোট ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টন শস্য উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে ধান, গম ও ভুট্টার ঊর্ধ্বমুখী ফলন।
চীন ২০২৩ সালে মোট ৬৯ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার টন শস্য উৎপাদন করে। এ হিসাবে ২০২৪ সালে তা বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
ফেংহুয়া বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিকূল প্রভাবের মধ্যেও শস্য উৎপাদন বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিজমি সুরক্ষার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপে ফলন বেড়েছে।’
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, চীনে ২০২৪ সালে চাল উৎপাদন বেড়ে ২০ কোটি ৭৫ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এ সময় দেশটিতে গম উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ১ লাখ টনে।
চীনে গত বছর ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। মোট উৎপাদন হয়েছে ২৯ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার টন।